রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাইবার সন্ত্রাসের অভিযোগ নেপথ্যে সেই কথিত জব্বার
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে অপসাংবাদিকতা, ব্ল্যাকমেইলিং ও ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জাব্বারুল ইসলাম জাব্বার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। “সত্যের পথে সবসময়” নামক একটি ফেসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অরুচিকর পোস্ট দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অটোচালক হিসেবে জীবনযাপন করা জাব্বার কোনো বৈধ জাতীয় বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত নন। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি কিংবা সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকার পরও তিনি কীভাবে একটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হয়নি। অথচ এই পরিচয় ভাঙিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের ৫ থেকে ৭ জন সদস্য অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ছত্রছায়ায় সুবিধা নিলেও বর্তমানে কতিপয় রাজনৈতিক নেতার সান্নিধ্য নিয়ে তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন। কোনো ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বা সাংবাদিকদের সম্মানহানি করে ওই ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। মানুষের পেছনে লাগা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য রয়েছে, কিছুদিন আগে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির শিকারও হয়েছিলেন এই কথিত সাংবাদিক। অথচ তিনি নিজে নিবন্ধনহীন ফেসবুক পেজ ও ভুঁইফোড় মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালালেও বিভিন্ন বৈধ গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পোর্টালকে ‘অনিবন্ধিত’ বলে অবৈধ ঘোষণা করার অপচেষ্টা চালান।
এহেন সাইবার সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাইবার টিম বর্তমানে অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং খুব দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রাণীশংকৈলের সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ এই ভুঁইফোড় প্রতারককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।